Wednesday, September 7, 2016

ঢাকায় ‘ভূপেন হাজারিকা জন্মোৎসব’ শুরু

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার ৯০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলায় শুরু হয়েছে দুদিনের অনুষ্ঠানমালা।

কালজয়ী অংসখ্য বাংলা গানের শিল্পী ভূপেন হাজারিকা। মানবতাবাদী এ শিল্পী বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। তার গান এ দেশের মুক্তিসংগ্রামে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। ‘আমি এক যাযাবর’, ‘গঙ্গা আমার মা’, ‘মানুষ মানুষের জন্যে’-সহ তার এমন অনেক ভুবনজয়ী গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. অমর জ্যোতি চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ভূপেন হাজারিকা কালচারাল ট্রাস্টের উপদেষ্টা অনুরাধা শর্মা পূজারী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ, আসাম অংশের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন ভারতীয়া। আলোচনা শেষে উদ্বোধনী দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আসামের শিল্পী রূপম ভূঁইয়া। এই শিল্পী শুরুতেই গাইলেন ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠে গাওয়া বাংলা গান ‘আকাশি গঙ্গা’, হিন্দি ‘দিল হুম হুম কারে’, এরপর তিনি গাইলেন আসামের কামরূপী ফোক গান ‘হে মাই যশোয়া’। এই গানের রেশ কাটতে না কাটতে গাইলেন আসামের আরেক ফোক গান ‘সোনার বরণ পাখিরে’। এ ছাড়াও ভূপেন হাজারিকার কয়েকটি গানের সঙ্গে কোলাজ নৃত্য পরিবেশন করে ভারতের নাচের দল সুরঙ্গম নৃত্যদলের দুই শিল্পী। এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘জয় জয় নবজাত বাংলাদেশ’ ও ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয়’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসান আরিফ।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ভূপেন হাজারিকার গান আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের। সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন শরণার্থীদের জন্য। তার এই ঋণ বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভোলেনি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ভূপেন হাজারিকার গান এখনো মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি।’ রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে ভূপেন হাজারিকার গান তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

অনুরাধা শর্মা পূজারী বলেন, ‘ভূপেন হাজারিকা ছিলেন মানবতা পূজারী। যেখানেই মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে সেখানেই তিনি গান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি এ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বন্ধুত্বের হাত।’

বৃহস্পতিবার উৎসবের দ্বিতীয় এবং সমাপনী দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সমন্বয়ক এ এস এম সামছুল আরেফিনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। আলোচনা করবেন সঙ্গীতশিল্পী কালিকা প্রসাদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন পংকজ দেবনাথ এমপি, সাংবাদিক অজিত ভূঁইয়া ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। সমাপনী আয়োজনে ভারতের লোকগানের দল দোহারের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।